সেরা ৭টি SEO টিপস, যা আপনাকে জানতে হবে।

SEO বা Search Engine optimization একটি ওয়েবসাইটের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা কম বেশি আমরা সবাই জানি। SEO পুরো নাম হলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। অনুসন্ধান ইঞ্জিনগুলি হলো গুগল, ইয়াহু, বিং। ইয়াহু সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে (1995) এ এসইও প্রথম যাত্রা শুরু হয়েছিল। একটি ওয়েবসাইট ব্লগ হোক কিংবা ই-কমার্স, স্ট্যাটিক হোক বা ডাইনামিক, সকল প্রকার ওয়েবসাইটের জন্য SEO করা খুবই জরুরী।

কেন করবেন এসইও?

কেন এস.ই.ও করবেন এর সহজ উওর হলো আমরা সবাই চাই, আমাদের ব্লগ বা ওয়েব বসাইট লিংক গুগুলের প্রথম পৃষ্টায় আসুক। আমরা সবাই চাই, আমাদের ওয়েবসাইট সম্পর্কে সারা দুনিয়া সবাই জানুক। সবাই চাই, আমাদের ওয়েবসাইটে ট্রাফিক বাড়ুক। সবাই চাই, আমাদের ওয়েবসাইটের রেংকিং হাই লেবেলে যাক । সবাই চাই, তার ওয়েবসাইট হোক সারা জীবনের উপার্জনের একটি উপযুক্ত মাধ্যম। কিন্তু, এতগুলি চাওয়া একটি মাত্র উপায়ে পাওয়া সম্ভব। আর তা হলো ওয়েবসাইটকে সঠিক পদ্ধতিতে SEO করা। অনলাইন ব্যবসা করে এমন প্রায় সবাই এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান সম্পর্কে জানে। অথবা হতে পারে অনেক লোক এসইওর সুবিধা গ্রহণ করে তবে এসইও কী বা আপনার ব্যবসায়ের প্রচার কীভাবে তা জানেন না। এখানে মাত্র ১০টি টিপস দিয়েছি, যা আপনার ওয়েবসাইটে প্রয়োগ করলে শতভাগ ফলাফল পাবেন, ইনশা-আল্লাহ।

১. Feature image selection.
আমরা সবাই প্রায় শপিং করতে যাই, যখন আমরা কিছু শপিং করি তখন অবশ্যই আমাদের অবশ্যই পণ্যটির চেহারাটি দেখতে হবে, তারপরে অন্যান্য জিনিসগুলি দেখুন। সুতরাং বাহ্যিক দিকটি যে কোনও কিছুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই এখানে প্রয়োগ হয়। আপনার ব্লগপোস্টের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে আপনি কীভাবে বৈশিষ্ট্য চিত্রটি ব্যবহার করেন। যদি বৈশিষ্ট্য চিত্রটি আকর্ষণীয় হয় তবে পাঠকদের সংখ্যা আরও বেশি। বেশিরভাগ পাঠক আপনার বৈশিষ্ট্য চিত্রটি দেখে পাঠ্যটি পড়বেন। এজন্য বৈশিষ্ট্য চিত্রগুলি সঠিক মানের হওয়া উচিত এবং পাশাপাশি এসইও বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। বৈশিষ্ট্য চিত্রটি এসইও বান্ধব কীভাবে করা যায় সে সম্পর্কে এখানে কিছু পরামর্শ দেওয়া হল বৈশিষ্ট্য চিত্রটি অবশ্যই .JPG হতে হবে। বৈশিষ্ট্য চিত্রটিতে একটি .PNG ফটো ব্যবহার করা ভাল। ফিচার ইমেজের সাইজ 1280 X 720 হলে ভালো হয়।

২. Develop Site For Mobile Devices
বর্তমানে পৃথিবীর অধিকাংশ মোবাইল ব্যবহারকারী মানুষকে আপনার ওয়েবসাইট ব্যবহার করা থেকে বঞ্চিত করা কিছুতেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। সুতরাং ওয়েবসাইটকে (Responsive) অধিক প্রয়োজন। (Responsive) করা মানে, আপনার ওয়েবসাইট ডেক্সটপ, লেপটপ ছাড়াও মোবাইল, ট্যাবলেটে ইত্যাদির আউটলুক যেন সুন্দর এবং ব্যবহার করা সহজ হয়, সেদিকে অবশ্যই নজর দিতে হবে। মনে রাখবেন, কম্পিউটার, লেপটপ সবাই সব সময় সংগে নিয়ে ঘুরে না। কিন্তু মোবাইল সবাই নিজের সাথে রাখে। আপনার ওয়েবসাইট রেস্পন্সিভ হলে, যে কেউ যখন ইচ্ছে মোবাইলে আপনার ওয়েবসাইট ব্রাউজ করতে পারবে। এটা আপনার ওয়েবসাইট রেংকিং এর জন্য খুবই ভাল একটা দিক। Google Voice Search. একটি জরিপ অনুযায়ী পৃথিবীর প্রায় ২০% মানুষ মোবাইলে গোগলের মাইক বা search by voice অপশনটি ব্যবহার করে সার্চ করে থাকে। এবং এটা দৈনন্দিন দ্রুত গতিতে বাড়ছে। ওয়েবসাইট রেস্পন্সিভ করার জন্য CSS Media Query জানা থাকতে হবে। অথবা, BootStrap দিয়েও সহজে ওয়েব পেজ রেস্পন্সিভ করা যাবে।

৩. Google Webmaster And Analytics
অনেকে আছে যে তারা গুগল এনালাইসিস এবং এনালিটিক্স কি সেটা জানেই না। আর কেউ কেউ তো একটা আর্টিকেল দেখে অথবা ইউটিউবে একটা ভিডিও দেখে একটা ওয়েবমাস্টার একাউন্ট করে ফেলবে এবং নামিয়ে (Analytics Apps) ফেলে । কিন্তু কোন কাজই করে না। গুগলে এসইও করে প্রথম সারির দিকে আসতে চাইলে এগুলো ব্যবহার করা শিখতে হবে। গুগল ওয়েবমাস্টার ব্যবহার করে আপনার সাইটের সমস্ত পেজ মেনুয়্যালি ইনডেক্স করতে হবে। আর এনালিটিক্স ব্যবহার করে আপনি আপনার সাইটের সমস্ত ডেটা পর্যবেক্ষন করবেন। এই ডেটা গুলো দ্বারা বুঝবেন আপনার সাইটের কোন জায়গায় কি সমস্যা আছে কোথায় কি করতে হবে। এটা খুব খুব গুরুত্বপূর্ণ যদি আপনি আপনার আর্টিকেল গুগলের সার্চ লিস্টে প্রথম দিকে নিয়ে যেতে চান।

৪.Find The Best Keywords
সম্ভবত এসইও-র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কিওয়ার্ড রিসার্চ।কিওয়ার্ড রিসার্চ করা খুব জরুরি। সেরা কী-ওয়ার্ড বলতে এমন কিছু কী-ওয়ার্ড যা একজন ইউজার গোগল, ইয়াহু ইত্যাদি লিখে সার্চ করবেন। এখন কথা হচ্ছে, প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ গোগলে মিলিয়ন বিলিয়ন কী-ওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করছেন, সেখানে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য আপনি কেমন কী-ওয়ার্ড বাছাই করবেন! এই উত্তরটিকে যদি সহজ করে বলি, তাহলে মনে করুন আপনি বাজারে গিয়েছেন বাজার করতে। বাজারে তো অনেক কিছুর দোকান আছে। এখন আপনার যে জিনিসটির দরকার সেটা বাজারের কোথায় পাওয়া যাবে সেটা আপনি সঠিক জানেন না। এমন অবস্থায়, বাজারের দারোয়ানের কাছে জানতে চাইলে, সে আপনাকে এমন দশটি দোকান দেখাল যেখানে আপনার কাংক্ষিত জিনিসটি পাওয়া যাবে। এখন আপনি কি করবেন! নিশ্চয় এই দশটি দোকানের মধ্য সবচেয়ে নিকটে যে দোকানটি পাবেন, সেখানে আগে যাবেন, এবং আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসটি সেই দোকান থেকেই কিনবেন বলে সম্ভবনা বেশি।

৫. Unique content
এসইও-র জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল ইউনিক কনটেন্ট।এখানে ইউনবক মানে একশ ভাগ ইউনিক হতে হবে। কোন জায়গা থেকে কোন প্রকারের কপি করলে আপনার ব্লগ রেঙ্কতো করবেই না বরং আপনার সাইটে এ্যাডসেন্স চলে যাওয়ার আশংকা থাকে। আপনাকে আপনার নিশ অনুযায়ী খুব ভালো একটি আর্টিকেলেই লিখেই কেবল সেটিকে রেঙ্ক করাতে পারবেন। আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে কিওয়ার্ডের উপর।গুগলের রোবট সমসময় ভালো মানের আর্টিকেলকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাই একটি ভালো মানের আর্টিকেল লেখা অনেক জরুরি। চেষ্টা করবেন আপনার আর্টিকেল এক হাজার ওয়ার্ডের উপর রাখতে। এছাড়াও ঠিকমত টাইটেল, টাইটেল-২, বোল্ড, ইটালিক করাও ইউনিক কন্টেন্ট এর বৈশিষ্ট্য। আপনাকে গুগলে রেঙ্ক করাতে চাইলে ইউনিক আর্টিকেল অনেকখানি জরুরি।

৬. Create User Friendly URL
আপনার ডোমেইন হোষ্টিং কেনার পর, ওয়েবসাইট যখন অনলাইনে পাবলিশ করে দেবেন, তখন সর্ব প্রথম যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে তা হল, (User Friendly url) অর্থাৎ ওয়েব পেজ গুলোর url এমন হতে হবে যা ব্যবহারকারী সহজে মনে রাখতে পারে। বিশেষ করে যে পেজে যে ক্যাটেগরীর প্রোডাক্ট বা যে বিষয়ের উপর আর্টিকেল লেখা হবে, সে বিষয় সম্পর্কিত url হতে হবে। এবং খেয়াল রাখতে হবে যে, url যেন অনেক বড় হয়ে না যায়। User Friendly url হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৭. Regular Branding To Improve Visibility
প্রায় সব ওয়েবসাইট ডিজাইনের ক্ষেত্রে আরো একটি প্রয়োজনীয় বিষয় হচ্ছে ব্রান্ডিং। ব্রান্ডিং বলতে বুঝায় ওয়েবসাইটের জন্য একটি উন্নত মানের লোগো ডিজাইন করা। লোগোতে সাধারণত ওয়েবসাইটের পূর্ণনাম বা সংক্ষিপ্ত নাম অথবা বিশেষ কোন চিহ্ন থাকে। এই পূর্ণনাম বা সংক্ষিপ্ত নামকে মাথায় রেখে এমন একটি লোগো ডিজাইন করতে হবে, যা একবার দেখলে যে কোন ইউজারের ব্রেনে লোগোটি বসে যায়। অর্থাৎ পরবর্তীতে সে অন্য কোথাও লোগোটি দেখেই বুঝতে পারে যে লোগোটি কোন ওয়েবসাইটের। লোগো বানিয়ে সেটা আপনার ওয়েবসাইট পর্যন্ত সীমিত রাখলে হবে না, সেটাকে ব্রান্ডিং বা পরিচিত করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার, গোগল প্লাস সহ সকল সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার পোষ্ট শেয়ার করার সময় লোগোটিকে সাথে রাখুন, যাতে সবাই আপনার লোগোটিকে চিনতে পারে। লোগোটির সাথে পরিচিত হয়ে, কেউ যদি একবার আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করে লাভবান হয়, তাহলে যে কোন সোশ্যাল মিডিয়াতে সে আপনার শেয়ার করা পোষ্ট দেখলে, পোষ্টের সাথে লোগোটি তাকে টানবে। ফলে সে অন্তত কিছু হলে ও আপনার শেয়ার করা পোষ্টটিতে ক্লিক করে দেখতে চাইবে। সুতারাং SEO এর কিছু দৃশ্যমান উন্নতির জন্য ব্রান্ডিং একান্ত জরুরী।

This website uses cookies to ensure you get the best experience on our website.