ব্লগ বা ওয়েবসাইটের লোডিং স্পীড বাড়ানোর ৭ টি অসাধারন উপায়

সার্চ ইন্জিন অপটিমাইজেশন বা (SEO) বা এর ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের ব্লগে লোডিং স্পিড খুবই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে থাকে। (SEO) রেজাল্টে উপরের দিকে থাকতে হলে ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড বাড়ানোর অথাবা অনেক ফাস্ট লোডিং স্পীড এর কোনো বিকল্প নেই। ব্লগিং-এ সফলতার ক্ষেত্রে যত বেশি ব্লগের লোডিং স্পীড বেশী হবে ততো বেশি সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। কারণ ব্লগ বা ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড এর ভিত্তি করে গুগলের সার্চ রেজাল্ট র‍্যাংক করে তাছাড়া ব্লগের লোডিং স্পিড এর উপর ভিজিটরের প্রভাব রয়েছে।

একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে, ওয়েবসাইটের লোডিং টাইম ৩ সেকেন্ড এর বেশি হয়ে থাকে তাহলে প্রতি ৩জনের মধ্যে ১জন ইউজার বিরক্ত হয়ে ওয়েবসাইট ভিজিট করা থেকে বিরত থাকে।অন্য ওয়েবসাইট এর দিকে চলে যায়।

ওয়েবসাইটের পেজ স্পিড কি এবং SEO এর জন্য এর গুরুত্ব কতটূকু?

মনে করুন, আপনি প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস কিনতে সিলেট থেকে ঢাকা যাবেন। সিলেট থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য আপনার কাছে (৩)টি অপশন আছে। বাস, রেল এবং বিমান। আমরা জানি, এই (৩) টি বাহনের মধ্য বিমানের গতি অন্য দুইটা বাহনের চেয়ে ও অনেক অনেক গুণ বেশি। যদি কখনো এমন হয় যে, গাড়ি এবং রেলের ভাড়ার চেয়েও কম খরচে বিমানে করে সিলেট থেকে ঢাকা যাওয়া যাবে। তাহলে আপনি কোন বাহনটি বেছে নিবেন, নিশ্চয় বিমান। ঠিক তেমনি আপনি যখন ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্রয়োজনে ওয়েবসাইট ভিজিট করছেন, তাহলে আপিনিও নিশ্চয় এমন ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে চাইবেন, যেটা খুব দ্রুত ওপেন হয়।

কারণ, খুলতে অনেক সময় নেয়, এমন ওয়েবসাইট প্রথমত বিরক্তকর, দ্বিতীয়ত ব্যান্ডউইথ খরচ বাড়িয়ে দেয়। সুতারাং কচ্ছপ গতিতে চলা ওয়েবসাইটে কেউ ভিজিট করতে চাই না। আর ভিজিটর যদি ওয়েবসাইট ভিজিট না করে তাহলে, ওয়েবসাইটের জন্য যত রকম SEO করুন না কেন, কাজের কাজ কিছুই হবে না। এই কারণে সম্প্রতি গুগুল পক্ষ থেকে পেজ স্পিডকে SEO এর জন্য নতুন ফেক্টর বলে গণ্য করা হয়েছে।

গুগলের মতে ৩ সেকেন্ডের মধ্যে যদি একটি ওয়েবসাইট সম্পূর্ণ লোড নিতে সক্ষম না হয়, তাহলে সেই ওয়েবসাইট ৩০% ভিজিটর হারায়। অর্থাৎ লোডিং টাইম ৩সেকেন্ডের বেশি হলে, প্রতি তিন জনের একজন ভিজিটর বিরক্তবোধ করেন। সুতারাং SEO এর জন্য লোডিং টাইম অনেক বড় ইস্যু।

তাই পেজের লোডিং টাইম দুই এক সেকেন্ডের মধ্য নিয়ে আসুন। গুগলের এলগরিদম এমনভাবে করা হয়েছে, যেখানে একজন ভিজিটর ওয়েবসাইট ভিজিট করার সময় যদি ঢুকতে না পারে তাহলে সেটা ব্ল্যাকলিষ্টিং করে সার্চে পেছনের দিকে নিয়ে যায়। ফলে অনেক ভালো কন্টেন্ট থাকা স্বত্বেও আপনার ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে আসে না এবং জনপ্রিয় হয় না।

তাই এখানে সেরা এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ ১০টি টিপস সম্পর্কে আলোচনা করেছি, যে গুলির যথাযত প্রয়োগ আপনার পেজ স্পিডকে সময়ের গতিতে নিয়ে যাবে ইনশা-আল্লাহ।

১. অতিরিক্ত ইমেজ না ব্যবহার করা বা ইমেজ অপটিমাইজ না করা

আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে অনেক ইমেজ ব্যবহার করি যে গুলো এডিট করার সময় ইমেজের সাইজ অনেক বেশি হয়ে যায়। আমরা কোনো কিছু না করেই সরাসরি সাইটে ইমেজ গুলো আপলোড করে থাকি। ইমেজ রিসাইজ না করায় আমাদের সাইটের লোডিং স্পিড স্লো হয়ে যায়। আবার অনেক সময় অতিরিক্ত ইমেজ ব্যবহার করি তারজন্যও কিন্তু তার জন্যও ওয়েবপেজ লোডিং স্পিড কমে যায়।অতিরিক্ত ইমেজ না ব্যবহার করা বা ইমেজ অপটিমাইজ করে ইমেজ আপলোড করতে হবে। ইমেজ অপটিমাইজের জন্য এই টোল আপনি চাইলে ব্যবহার করতে পারেন। Smart PNG and JPEG compression আর ইমেজ যথসম্ভব jpg ফরম্যাটের রাখতে পারলে ভাল হয়, কারণ ওয়েবসাইটের জন্য আইডিয়াল ছবির ফরমেট হচ্ছে jpg ফরমেট। অল্প কিছু ছবি png ফরমেটে হলেও তেমন কোন সমস্যা নেই, কিন্তু gif ফরমেটের ছবি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। তবে কোন gif ফরমেটের ছবি ব্যবহার করার একান্ত প্রয়োজন হলে GIF to JPG converter এই টুলের মাধ্যমে আগে সেটাকে JPG ফরমেটে কনভার্ট করে নিন। gif ফাইল এনিমেশন হলে এনিমেশনের জন্য ব্যবহৃত সব ছবি gif ফরমেট থেকে jpg ফরমেটে নিতে পারেন। আর যদি কোথাও এনিমেশন gif ফাইল ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় তাহলে এই টোলের মাধ্যমে সেটাকে অপটিমাইজ করে নিন। Online GIF optimizer এই ওয়েবসাইটে ইমেজ অপটিমাইজ, রিসাইজ, ক্রপ সহ আরো অনেক টোল রয়েছে।

২.অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন ব্যবহার করবেন না

অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন ওয়েবসাইটের আর্টিকেল হিজিবিজি দেখায়। অনেকে আছে তাদের ওয়েবসাইটে অনেক বিজ্ঞাপন দেয়। ফলে পোস্ট এর মান ঠিক থাকে না। তাছাড়া বেশি বিজ্ঞাপন এর ফলে পেজের লোডিং স্পীড কমে যায়। ওয়েবসাইট বা ব্লগের লোডিং স্পীড বাড়ানোর জন্য পরিমার্জিত বিজ্ঞাপন ব্যবহার করতে হবে।

৩.ওয়েবসাইট ঠিক ভাবে কনফিগার না করা

ওয়েবসাইট ঠিক ভাবে কনফিগার না করা ওয়েব সাইট স্পিড কমে যাওয়ার অন্যতম কারন। আমরা অনেকে আছি কম দামে ওয়েবসাইট বানিয়ে নেই। কম দামে বানানোর ফলে দেখা যায় ওয়েবসাইট ঠিক ভাবে কনফিগার করা হয় না।ফলে ওয়েবসাইট অনেক স্লো হয়ে যায়। অনেক সময় ঠিক ভাবে সাইট কাস্টমাইজ করে না অথাবা প্রয়োজনীয় প্লাগিন গুলো ইনস্টল করে ফেলে রাখে ঠিক ভাবে কনফিগার করা হয় না। ফলে ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড স্লো হয়ে যায়। ব্লগের লোডিং স্পিড বাড়ানোর জন্য সাইটের কনফিগার ভালো ভাবে করা আবশ্যক।

৪.ওয়েবসাইটের স্পিড পরিক্ষা করুন

একজন সৎ এবং ভালো ডাক্তারকে যেমন ঔষুধের ডেসক্রিপশন লেখার আগে পরিক্ষা নিরিক্ষা করে রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হয়, ঠিক তেমনি ওয়েবসাইটের কোন একটি সমস্যা সমাধান করার জন্য সর্ব প্রথম সমস্যা গুলো কি কি আগে সেটা জানা একান্ত জরুরী। তাই, আগে আপনার ওয়েব পেজকে পরিক্ষা করে দেখুন কোথায় কি কি সমস্যার কারণে ওয়েব পেজের গতি কম হচ্ছে। অনলাইনে ওয়েব পেজের গতি নির্ণয় এবং সমস্যা গুলো দেখার জন্য অনেক টোল বা ওয়েবসাইট আছে। আমি এখানে তিনটা ওয়েবসাইটের লিংক দিলাম, যেটা ব্যবহার করতে আপনার সহজ মনে হয় ব্যবহার করতে পারেন।

-Google PageSpeed Insights
-GTmetrix
-Pingdom Website Speed Test

৫.অতিরিক্ত Widgets ব্যবহার করবেন নাঃ

আপনারা যখন উন্নতমানের কোন ওয়েবসাইটটি দেখবেন, দেখতে পাবেন যে তারা প্রয়োজনীয় কিছু Widgets ব্যবহার করে । অতিরিক্ত বেশি Widgets ব্যবহার করেনা । এতে তাদের সাইটটি অনেক সুন্দর এবং খুব দ্রুত ওয়েবপেজ লোড হয়। অনেকই আছে তারা ক্যাটাগরি ওয়াইস Widgets ব্যবহার করে। এতে ওয়েবসাইট বা ব্লগের লোডিং স্পিড কমে যায়। তাই ওয়েবসাইট বা ব্লগের লোডিং স্পীড বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত Widgets ব্যবহার বিরত থাকতে হবে।

৬. প্রয়োজনে CDN Content Delivery Network ব্যবহার করা

CDN বলতে Content Delivery Network বুঝানো হয়। অর্থাৎ এটি এমন একটি নেটওয়ার্ক যা আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্টকে ভিন্ন ভিন্ন দেশের নেটওয়ার্কের সাথে সংযোগ ঘঠিয়ে খুবই দ্রুত ডেলিভারী দিতে সহয়তা করে। ফলে আপনার ওয়েব পেজ অতি দ্রুত লোড হয়। আপনি CDN ব্যবহার করতে পারেন। CDN মুলত বিভিন্ন দেশের নিকটতম সার্ভার থেকে ভিজিটরদের মধ্যে যেটা বিভাজন করে দেয়। CDN গ্রুপিং হয়ে বিশ্বব্যাপী কাজ করে থাকে। এটা ব্যবহার করলে আপনার ওয়েবসাইটের লোডিং স্পীড বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। আপনি চাইলে ফ্রিতে Cloudflare থেকে CDN ব্যবহার করতে পারেন। অনেকেই Cloudflare থেকে CDN ব্যবহার করে থাকে। Cloudflare ফ্রিতেও CDN ব্যবহার করার সুযোগ দিয়ে রেখেছে।

৭.অপ্রয়োজনীয় প্লাগ-ইন সরিয়ে নিন

ব্লগের জন্য কোনো প্লাগিন লাগে না। তবে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট এর জন্য কিছু দরকারি প্লাগিন দরকার হয়। এ গুলো ব্যবহার করলে ওয়েবসাইটটি অনেক প্রফেশনাল করে তুলা হয়। তবে অনেকে৷ হুদাই অনেক প্লাগিন ইনস্টল করে রাখে এই সব বাদ দেওয়া লাগবে ওয়েবসাইট এর লোডিং স্পীড বাড়াতে হলে। তাই রিকোয়েষ্ট হচ্ছে যে, আপনার ওয়ার্ডপ্রেস পানেলে গিয়ে সকল প্লাগিন পুনরায় আরেকবার দেখে নিন, যদি মনে হয় কোন একটি প্লাগিন আপনার তেমন কোন কাজের নয় তাহলে সেটাকে আনইষ্টল করে নিন। কারণ প্লাগিন যত বেশি থাকবে পেজ স্পিড তত কমে যাবে। আর আপনার পেজের যত সিএসএস লিংক থাকবে সকল লিংক হেড সেকশনে রাখুন, অথবা ইন্টারনাল কোন সিএসএস থাকলে সেটাকে হেড শেকশনে রাখুন। আর যত জাভাস্ক্রিপ্ট বা জাভাস্ক্রিপ্ট লিংক থাকবে সব কিছুই ফুটার সেকশনে রাখুন।

This website uses cookies to ensure you get the best experience on our website.